নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া এলাকায় গোরস্থানের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার আমগড়া ও পুলিয়া পানেশ্বরপাড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় আমগড়া বাজারের কয়েকটি দোকান ও একটি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ আল মামুন জানান, শুক্রবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত ৫০ জনের বেশি লোককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও রোগী আসছেন। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আহতদের সবাইকে পুলিশ কেস হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমগড়া বাজারের পাশের ওই গোরস্থানটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার দাবি, গোরস্থানটি সার্বজনীন এবং আশপাশের আটটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মৃতদের দাফন করে আসছেন। তবে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়ার লোকজন গোরস্থানটি এককভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দা মো. কালামের দাবি, গোরস্থানটির জমির দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁদের গ্রামের লোকজনের নামে রয়েছে। আমগড়া গ্রামের লোকজন জোরপূর্বক গোরস্থানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাওয়ায় মূলত বিরোধের সূত্রপাত।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়ে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়া ও আমগড়াসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে গোরস্থান ঘেঁষে আমগড়া গ্রামের লোকজন কয়েকটি দোকানঘর স্থাপনের উদ্যোগ নিলে পুলিয়া পানেশ্বরপাড়ার লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে আমগড়া বাজারের তিনটি দোকান ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আবারো সংঘর্ষ হতে পারে এমন আশংকা থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছবি- সংঘর্ষের পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহতরা, সংঘর্ষস্থলে ভাংচুর হওয়া সিএনজি অটোরিকশা
সাইফুল আরিফ জুয়েল
নেত্রকোনা
১৪/০৮/২৬
০১৭৬০৩৭৩৬৭৮
বারহাট্টা সংবাদ 















