রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেরা লেখক সম্মাননা পেয়েছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক এনামূল হক পলাশ

বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসবে “পাখপাখালির ছড়া” গ্রন্থের জন্য সেরা লেখক সম্মাননা পেয়েছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক এনামূল হক পলাশ

২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার ঢাকায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘ শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬’ এ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

রাজধানী ঢাকার শিশু একাডেমিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সাহিত্য উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবের সূচনা বক্তব্য দেন শিশুসাহিত্য উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব কাদের বাবু।
সারাদেশ থেকে আগত তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিকের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, তাৎক্ষণিক গল্প ও ছড়া লেখা, জাদুকরী প্রদর্শনী এবং লেখক-সম্পাদকের মুখোমুখি সংলাপসহ নানা বৈচিত্র্যময় পর্ব।
গুণীজনদের উপস্থিতিতে উৎসব মুখর উদ্বোধন
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ ফিতা কেটে এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্যের পর শুরু হয় “শিশুসাহিত্যের সংকট ও সম্ভাবনা” বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ এবং মূল আলোচনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক, লেখক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি হাসান হাফিজ, শিশুসাহিত্যিক রোকেয়া খাতুন রুবী, শিশুসাহিত্যিক জুলফিকার শাহাদাৎ।

দিনব্যাপী আনন্দঘন আয়োজন ও সাহিত্য চর্চা
সকাল সাড়ে ৮টায় রেজিস্ট্রেশন বুথ থেকে ব্যাগ ও কুপন বিতরণের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা। চা-চক্রের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবি ও লেখকদের অংশগ্রহণে শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা পাঠের আসর বসে।
দুপুরের বিরতির আগে লেখকদের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার পরীক্ষা নিতে আয়োজন করা হয় তাৎক্ষণিক গল্প ও ছড়া লেখা প্রতিযোগিতা। দুপুরের খাবারের পর দুপুরের আকর্ষণ হিসেবে ছিল একটি মনোজ্ঞ জাদু প্রদর্শনী, যা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। এরপর আমন্ত্রিত প্রবীণ ও নবীন শিশুসাহিত্যিকদের চমৎকার ছড়াপাঠের আসর জমে ওঠে।
লেখক-সম্পাদক মুখোমুখি এবং সম্মাননা প্রদান
বিকেলের অধিবেশনে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল জাতীয় পত্রিকার শিশুসাহিত্য পাতার সম্পাদকদের সঙ্গে লেখকদের সরাসরি প্রশ্নোত্তর ও মুখোমুখি সংলাপ। এই পর্বে শিশুসাহিত্যের মানোন্নয়ন এবং তরুণ লেখকদের লেখার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
দিনশেষে ‘বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয়। তাতে অন্যান্যদের সাথে “পাখপাখালির ছড়া” গ্রন্থের জন্য সেরা লেখক সম্মাননা পেয়েছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক এনামূল হক পলাশ। সম্মাননাপ্রাপ্ত লেখকদের অনুভূতি প্রকাশ ও সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ এবং গতিশীল করবে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

বারহাট্টা প্রেসক্লাব পরিদর্শন করলেন এটিএম আব্দুল বারী ড্যানী

সেরা লেখক সম্মাননা পেয়েছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক এনামূল হক পলাশ

আপডেট : ০৬:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসবে “পাখপাখালির ছড়া” গ্রন্থের জন্য সেরা লেখক সম্মাননা পেয়েছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক এনামূল হক পলাশ

২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার ঢাকায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘ শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬’ এ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

রাজধানী ঢাকার শিশু একাডেমিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সাহিত্য উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবের সূচনা বক্তব্য দেন শিশুসাহিত্য উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব কাদের বাবু।
সারাদেশ থেকে আগত তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিকের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, তাৎক্ষণিক গল্প ও ছড়া লেখা, জাদুকরী প্রদর্শনী এবং লেখক-সম্পাদকের মুখোমুখি সংলাপসহ নানা বৈচিত্র্যময় পর্ব।
গুণীজনদের উপস্থিতিতে উৎসব মুখর উদ্বোধন
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ ফিতা কেটে এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্যের পর শুরু হয় “শিশুসাহিত্যের সংকট ও সম্ভাবনা” বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ এবং মূল আলোচনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক, লেখক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি হাসান হাফিজ, শিশুসাহিত্যিক রোকেয়া খাতুন রুবী, শিশুসাহিত্যিক জুলফিকার শাহাদাৎ।

দিনব্যাপী আনন্দঘন আয়োজন ও সাহিত্য চর্চা
সকাল সাড়ে ৮টায় রেজিস্ট্রেশন বুথ থেকে ব্যাগ ও কুপন বিতরণের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা। চা-চক্রের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবি ও লেখকদের অংশগ্রহণে শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা পাঠের আসর বসে।
দুপুরের বিরতির আগে লেখকদের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার পরীক্ষা নিতে আয়োজন করা হয় তাৎক্ষণিক গল্প ও ছড়া লেখা প্রতিযোগিতা। দুপুরের খাবারের পর দুপুরের আকর্ষণ হিসেবে ছিল একটি মনোজ্ঞ জাদু প্রদর্শনী, যা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। এরপর আমন্ত্রিত প্রবীণ ও নবীন শিশুসাহিত্যিকদের চমৎকার ছড়াপাঠের আসর জমে ওঠে।
লেখক-সম্পাদক মুখোমুখি এবং সম্মাননা প্রদান
বিকেলের অধিবেশনে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল জাতীয় পত্রিকার শিশুসাহিত্য পাতার সম্পাদকদের সঙ্গে লেখকদের সরাসরি প্রশ্নোত্তর ও মুখোমুখি সংলাপ। এই পর্বে শিশুসাহিত্যের মানোন্নয়ন এবং তরুণ লেখকদের লেখার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
দিনশেষে ‘বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয়। তাতে অন্যান্যদের সাথে “পাখপাখালির ছড়া” গ্রন্থের জন্য সেরা লেখক সম্মাননা পেয়েছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক এনামূল হক পলাশ। সম্মাননাপ্রাপ্ত লেখকদের অনুভূতি প্রকাশ ও সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ এবং গতিশীল করবে।